পাছায় ফোড়া হওয়ার কারণ ও এর প্রতিকার

ফোড়া, এটি মানব দেহের একটি বিশেষ রোগ। বিভিন্ন সময়ে মানব দেহের বিভিন্ন স্থানে উঁচু হয়ে ওঠা একটা যায়গা কে আমরা ফোড়া নামেই চিনে থাকি। এটি আসলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারনে হতে পারে। যে সকল কারনে ফোড়া হয় তার কিছু বিশেষ কারন নিচে উল্লেখ করা হলো। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু কারন থাকতে পারে।

  • ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে
  • ভেতরে সাদা বা হলুদাভ পুঁজ জমা হয়
  • পুঁজ জমার কারণে প্রচণ্ড ব্যথা বা টনটনানি হতে পারে

পাছায় ফোড়া হওয়ার কারণ

অনেকেরেই দেখবেন তাদের দেহে বার বার ফোড়া হয়, আর বিশেষ করে বার বার একইস্থানে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেটি মানু শরিরের বিশেষ অঙ্গ পাছায় হতে দেখা যায়। কিন্তু দেহের এতো সব যায়গা থাকতেও পাছা কেন বার বার ফোড়া হয়

আমাদের টিম যখন এই ব্যাপারে খোজ নেওয়ার কাজ শুরু করেন. তখন বিশেষ বিশেষ কিছু সম্ভব্য কারন খুজে পায়া। আসলে বিভিন্ন জনের দেহে এই ফোড়া বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন কারনে দেখা যেতে পারে। তবে কমন কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো।

  • দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে ওই অংশের ত্বকে ঘর্ষণ এবং চাপ পড়েসহজে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায় পাছার ভাঁজে ঘাম বেশি হয় এবং বাতাস চলাচল কম থাকে।
  • অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ঘামের কারণে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে টাইট পোশাক বা সিন্থেটিক কাপড় পরলে লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সেখানে পুঁজ জমে বারবার ফোড়া হতে পারে
  • যদি বারবার একই জায়গায় বা শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থানে (যেমন বগল বা পাছা) বড় বড় ফোড়া হয়, তবেদীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগের লক্ষণ হতে পারে
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই বা যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ত্বকে বারবার ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে এবং ফোড়া তৈরি করে

তাই এই সব কারন থেকে শিক্ষা নিয়ে সহজেই সমমাধান পাওয়া যেতে পারে।

পাছায় ফোড়া হলে কি ঔষধ খাবো

আমরা সরাসরি কোন ঔষধ সাজেস্ট করতে পারি না। তবে যে কোন রোগ বিষয়ে ঔষধ খেতে হলে আপনাকে আগে রোগ নির্নয় করে নিতে হবে এবং দক্ষ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই ঔষধ খেতে হবে।

তবে আমরা রোগ বিষয়ক কিছু ঘডরোয়া টিপস দিয়ে থাকি এবং রোগের বিশেষ কিছু ঔষধ সমন্ধেও জানিয়ে থাকি শুধুমাত্র সাধারন মানুঝের ধারনার জন্য, ফলে ডাক্তারের লেখা ঔষধটি আসলে কি রোগের জন্য ছিল, তা হসজেই নির্নায় করতে পারে।

  • ব্যথার জন্য Paracetamol (যেমন: Napa, Ace) বা Ibuprofen ভরা পেটে খাওয়া যেতে পারে।
  • যদি ফোড়াটি বেশি বড় হয় বা চারপাশ লাল হয়ে ফুলে যায়, তবে চিকিৎসক সাধারণত Flucloxacillin (যেমন: Phulox, Flugal) বা Cefuroxime জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন।
  • ফোড়ার মুখে লাগানোর জন্য Mupirocin (যেমন: Mupiccin, Bactrocin) বা Fusidic Acid ক্রিম ব্যবহার করা হয়।

পাছায় ফোড়া হলে করণীয় কি

অনেক সময়ে পাছায় ফোড়া হলে ঘরোয়া উপায়ে তা নিরাময় করা সম্ভব হতে পারে। তবে বেশি খারাপ অবস্থা দেখা গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

  • পরিষ্কার কাপড়ে গরম পানিতে ভিজিয়ে গরম সেঁক দিন
  • ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
  • ফোড়া কখনোই হাত দিয়ে গালানো বা চিপে পুঁজ বের করার চেষ্টা করবেন না
  • আক্রান্ত স্থানটি হালকা সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখুন
  • পুঁজ বের হতে শুরু করলে তা পরিষ্কার তুলা বা গজ দিয়ে মুছে নিন
  • স্থানটি ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন যাতে সংক্রমণ অন্য কোথাও না ছড়ায়
  • অতিরিক্ত ব্যথা হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ খেতে পারেন

ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে ফোড়া পাকানো যায় তা নিয়ে আমাদের বিস্তারিত পোস্টে দেখে নিতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top