সোলাস নিয়ে অনেকের ই অনেক প্রশ্ন থাকে। সোলাস কি ধরনের ওষুধ বা এটি কি কাজ করে। সেই সাথে খাবার নিয়ম, খাবারের উপকারীতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমন্ধে সবাই কম বেশি জানতে চান। আমরা এই পোস্টে সোলাস নিয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে আপনাদের সাহায্য করবো।
সোলাস কি এবং কেন ব্যবহার করা হয়?
হয়তো আপনি এটা সমন্ধে জেনেই এসেছেন যো সোলাস একটি বিশেষ কোন ঔষধ। তাহলে আমরা তার পরের কথায় যেতে প্রস্তুত।
সোলাস মুলত একটি কৃমিনাশক ওষুধ। এটি বিভিন্ন প্রকার ভেদে বাজারজাত করা হয়। এর বিশেষ ট্যাবলেট ও সিরাপ পাওয়া যায়, ফলে সহজেই যে কেউ যে কোন পরিমাণে এটির প্রয়োগ করতে পারেন। তবে প্রয়োজনটা অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শের মাধ্যমে হওয়া দরকার।
সোলাস পেটে কৃমির পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে গেলে তখন সেটি নাশ বা বিনাস করার জন্যই খাওয়া হয়।
সোলাস এর কাজ কি
সোলাস পেটের অতিরিক্ত কৃমিকে নিধন করে দেয়। ফলে পেটের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়, তার মধ্যে গ্যাসটিক, বদ হজম, পেট ব্যাথা, কৃমির কামড়, কৃমি জনিত কিডনী রোগ বা অন্যান রোগ থেকে।
সোলাস খাওয়ার নিয়ম
সোলাস এর বিভিন্ন প্যাক ফার্নেসিতে পাওয়া যায়। তবে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন। ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে। যেহেতু সোলাস কৃমি নাশক ওষুধ, তাই তার খাওয়ার নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ
সাধারণত ১০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট অথবা ১ চা চামচ (৫ মিলি) সাসপেনশন একক ডোজ হিসেবে একবার সেবন করতে হয়। দিনে দুইবার করে টানা ৩ দিন সেবন করতে হয়। যদি ৩ সপ্তাহ পরেও কৃমি সংক্রমণ থেকে মুক্তি না পাওয়া যায়, তবে চিকিৎসক দ্বিতীয়বার এই কোর্সটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ৩য় সপ্তাহের আগেই (২য় সপ্তাহের মধ্যই) ২য় কোর্সটি সম্পুর্ন করতে হতে পারে। তবে সেটি ডাক্তারের পরামর্শে যেতে হবে, যদি না মনে হয় আপনি তুলনা মূলক বেশ সুস্থ্য আছেন।
তবে অনেকে ছোট পরিশরে খেয়ে থাকেন, যেমন শুধমাত্র ১ ডোজ বা একবার ই খেয়ে থাকেন। তাদের ক্ষেত্রে শুধু একবারে ১০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট অথবা ১ চা চামচ (৫ মিলি) সাসপেনশন ব্যবহার যোগ্য।
খাও.য়ার বিশেষ উপায়ঃ সোলাস ট্যাবলেট আস্ত গিলে খাওয়া যায়, আবার প্রয়োজনে চিবিয়ে বা গুঁড়ো করেও খাওয়া যেতে পারে। এটি ভরা পেটে বা খালি পেটে সেবন করা যায়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঠান্ডা আবহাওয়ায় খাওয়া হয়।
solas syrup dose for child bangla
শিশুদের জন্য মূলত সোলাস ১০০ মি.গ্রা./৫ মিলি (Solas 100mg/5ml) সাসপেনশন বা সিরাপ ব্যবহার করা হয়। এটি শিশুর শারেরিক অবস্থা ও কৃমির অবস্থার উপরে নির্ভর করে ডাক্তার নির্দেশ করবেন।
সোলাস ট্যাবলেট কি চুষে খেতে হয়
আপনি সোলাস ট্যাবলেট চুষে খেতে পারেন বা আপনি চাইলে চিবিয়ে গুড়ো করেও খেতে পারেন। এর জন্য কোন প্রকার সমস্যা হবে না।
অনেক ক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন যে গুড়ো করে বা চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়, তবে এর তেমন কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। কারন এটি যেভাবেই পেটে যাক না কেন, সেখানে গিয়ে এটি গলে যাবে আর এটি পেটে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটাবে। এটি অবশ্যই আপনি গিলে খেতে পারেন, কেননা এটি পেটে গেলেও আস্ত থাকবে না বরং এটি গলে ছড়িয়ে যাবে।
সোলাস ট্যাবলেট কি খালি পেটে খেতে হয়
সোলাস ট্যাবলেট কি খালি পেটে খাওয়া যায় কিনা, এটি নিয়েে অনেকে জানতে চায়। তাদের জন্য মুলত বলা যে, সোলাস আপনি চাইলে খালি বা ভরা পেটেও খেতে পারেন কোন সমস্যা নেই।
তবে যদি শারেরিক ভাবে দূর্বল থাকেন, তাহলে সকালে একেবারে খালি পেটে খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো মনে হয়। কারন অনেক সময়ে এই ধরনের কৃমি নাশক ওষুধ খেলে মাথা ঘোড়ানোর মতো কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে, যা সকালের মতো বা একেবারে খালি পেটে খেলে বেশি আসঙ্ঘা থাকে।
সোলাস এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সোলাস একটি কৃমি নাশক ওষুধ। সাধারনত এই ধরনের ওষুধে কিছু কিছু সতর্কতা থাকে বা সোলাস এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তার মধ্যে বিশেষ যা যা থাকে।
- সোলাস খাওয়ার পর পেটে হালকা অস্বস্তি বা মোচড় দেওয়া
- হালকা বমি ভাব অনুভব হতে পারে
- মল নরম হয়ে যাওয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়া পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হওয়া
সোলাস খাওয়ার সতর্কতা
বিশেষ বিশেষ রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সমস্যার কারন হতে পারে। তাই এ ব্যপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যে রোগগুলো সমন্ধে ডাক্তার বিবেচনা করেই ওষুধ প্রদান করবেন। তবে সেই সাথে যে সকল লক্ষন দেখা গেলে জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে সেগুলো হলোঃ
- শরীরে চুলকানি বা লালচে র্যাশ ওঠা
- অস্বাভাবিক জ্বর বা প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব করা
- চুল পড়ার অভিযোগ শ্বাসকষ্ট, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া
গর্ভাবস্থায় এটি নিরাপদ নয়, এড়িয়ে চলুন। এবং দুগ্ধমাতার ক্ষেত্রেও ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যক।
সোলাস ট্যাবলেট কয়টা খাওয়ার নিয়ম
কৃমি ভেদে সোলাস ট্যাবলেট ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে যারা শুধু ১ ডোজ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য শুধু রাতে ১ টা খেলেই চলবে। তবে ১ ডোজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃমির পরিমাণ কম হওয়া বা যারা নিয়মিত সঠিক পরিমাণে এটি সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে। এর মাত্রা প্রতি ৩ মাসে ১ টি করে হতে পারে।
সাধারণ কৃমি বা সুতাকৃমির জন্য: ১০০ মি.গ্রা.-এর একটি ট্যাবলেট একবারই সেবন করতে হয়।অনেক সময় ২ সপ্তাহ পর পুনরায় কৃমি সংক্রমণ রোধে দ্বিতীয় একটি ডোজ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
গোলকৃমি, হুককৃমি বা চাবুক কৃমির জন্য: সাধারণত দিনে ২ বার (একটি সকালে, একটি রাতে) করে টানা ৩ দিন সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বি. দ্র. কৃমির প্রকারভেদ বা শারেরিক গঠন, ওজনের ভিত্তিতে এর মাত্রা কমতে বা বাড়তেও পারে।