বাম চোখ লাফালে কি হয় (বিজ্ঞান কি বলে?)

সমাজে অনেকেই বলে থাকে যে অমুক চোখ লাফায়, চোখের পাপড়ি লাফায় আবরা বলে চোখ কাপে। কিন্তু আসলে এগুলো কেন হয় আর এটি ধর্মীয় বর্ননা আর সামাজিক বর্ননার সাথে আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রথাকেও তুলে ধরবো।

এই সকল বিষয়ে জেনে নেওয়া খুবই গুরুত্ব, না হয়তো সমাজের কিছু ধোকা থেকে বেড়িয়ে আসা অসম্ভব হবে আর এই মিথ্যে গোলকধাধায় থেকে গেলে জীবনের বিশেষ অনেক সমস্যার অবসান করা যাবে না।

চোখ লাফানোর কারণ কি

বিজ্ঞানের কথা বলতে গেলে চোখ সাধারনত কমন বেশশ কিচু কারনে লাফাতে পারে। এটিকে বিজ্ঞানের ভাষায় মায়োকিমিয়া, এটি চোখের পাতার পাশে এক ধরনের থমকানো অবস্থা বা জড়তার মতো।

মস্তিষ্কের যেসব স্নায়ু চোখের নিয়ন্ত্রন করে (বিশেষ করে চোখের পাতার নাড়াচাড়া নিয়ন্ত্র করে) সেগুলো অস্বাভাবিক বা অতি উত্তেজনার বসে পেশিগুলো নিজেদের অজান্তেই দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত করাতে পারে, ফলে চোখের চারোপাশে বিভিন্ন অংশে বা বিভিন্ন মাত্রায় এই ধরনের লাফাতে দেখা যেতে পারে।

এর বিশেষ কমন কিছু কারণ পাওয়া যায়, যা বিজ্ঞানের বিভিন্ন সেক্টরের গবেষনার মাধ্যমে সামনে এসেছে, আমরা সেগুলোকে ছোট করে তুলে ধরছিঃ

  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস
  • অপর্যাপ্ত ঘুম বা শারীরিক ক্লান্তি
  • দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে
  • চোখের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে
  • মাত্রাতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকস গ্রহণ করলে
  • শরীরে ম্যাগনেসিয়াম বা ভিটামিন বি১২-এর মতো প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টির অভাব 
  • চোখের আর্দ্রতা কমে গেলে

বাম চোখ লাফালে কি হয়

বাম চোখ লাফালে কি হয়, এমন প্রশ্ন আসে আমাদের সমাজের আদি কিছু প্রচলিত উক্তি বা উদ্দেশ্যমুলক কিছু কারণে, যা হবে পারে বিভ্রান্ত করা বা হতে পারে সেগুলো কোন ব্যবসার মতো কিছু কারণে।

সরাসরি বাম চোখ লাফালে কি হয় এটি আমাদের স্পেশাল কোন টপিক নেই বিজ্ঞানে, কারন উভয় চোখ লাফানোর কারণ এককই হতে পারে, তবে কিছু কিছু বিশেষ সমস্যারা কারণে এমন এক চোখে দেখা যেতে পারে।

সমাজে প্রচিত বিভিন্ন কারণ অনেক সময়ে আমাদের সামনে আসতে পারে। এগুলো আসলে অনেকে বিভিন্ন ধর্মীয় ভাবেও বিশ্বাস করে থাকে। আমরা সেগুলো সমন্ধেও সংক্ষেপে আলোচনা তুলে ধরবো।

প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

অনেকে মনে করেন যে পুরুষের বাম চোখ লাফালে খারাপ কিছু হতে পারে আর মেয়েদের বাম চোখ লাফালে ভালো কিছু হতে পারে। তবে এটি নিয়ে বিজ্ঞানের সরাসরি উক্তি হচ্ছে এটি ভুল একটি ধারনা আর এর কোন ভিত্তি নেই। বরং এটি সারেরিক ত্রুটির জন্য হয়। এর পরিমাণ বেশি বেড়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ কারন এটি শারেরিক দূর্বলতার ও বিশেষ একটি কারণ হতে পারে।

বাম চোখের পাতা লাফালে কি হয়

চোখ লাফানো আর চোখের পাতা লাফানোর কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। তবে সরাসরি ডাক্তারদের ভাষায় চোখের অক্ষ কখনোই লাফায় বা কাপতে পারে না, যা হয় তা তো এই পাতায় ই হয়। চোখের পাতার মধ্যে অনেক রক্তনালী থাকে, যা আসলে আমাদের চোখের পাতার মধ্যে থাকে, তাই সেখানেই এই লাফালাফি করে।

মেয়েদের বাম চোখ লাফালে কি হয়

অনেকে মনে করে মেয়েদের বাম চোখ লাফালে সেটি ভালো লক্ষন, সেটি ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে। তবে এটিও সম্পুর্নরূপে একটি ভ্রান্ত মতবাদ। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের চোখ লাফানোটা যৌতিক, তাদের বিশেষ প্রেশন বা আতঙ্কিত হলে এমন হওয়াটা সাভাবিক।

ছেলেদের বাম চোখের উপরের পাতা লাফালে কি হয়

প্রচলিত অর্থে জানা যায় যে ছেলেদের বা পাশের চোখের পাতা লাফালে সেটি নাকি অলক্ষন বা খারাপ দিক। কিন্তু আসলে সেটিও ঠিক নয়। ছেলারা বিপদে পড়লে বা ভায়াবাহ কোন দূর্ঘটনার সামনে পড়লে অনেকের ই চোখের পাতা লাফায়। আবার ধুমপান, অস্বাস্থ্যকর নেশা বা অন্যান্য কারনে অনেকের শরীর দূর্বল হয়ে থাকে, ফলে তাদের ক্ষেত্রেও চোখের পাতা লাফালে পারে।

সঠিক বিজ্ঞান অনুযায়ী এটি কোন ভালো খারাপ বিষয়কে নির্দেশ করতে পারে না।

বাম চোখ লাফালে কি হয় ইসলাম কি বলে

সরাসরি ইসলামের নীতি অনুযায়ী কেউ কোন প্রকারের অবাস্তব নির্দেশের মাধ্যমে ভবিশ্যত বলতে পারে না, সেটি হোক ভালো বা খারপ। আমরা আরো বিভিন্ন সময়ে বুঝতে পারি যে ঝড় হওয়ার সম্ভবনা বা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা, তবে যে হবেই তেমন কোন সঠিক শতভাগ নিশ্চিত দিতে পারি না।

তবেও সেটি আসলে বিজ্ঞান সম্মত দেখা যায়, আর ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ের গবেষনা থেকেও আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে, এমন নির্দেশনা অনুয়ায়ী পৃথীবি বা অন্যান্য ক্ষেত্রের বিভিন্ন দূর্যোগ বা দূর্ঘটনা সমন্ধে অগ্রীম আভাস পেয়ে থাকি। কিন্তু সেই সকল নির্দেশনা উক্ত ঘটনার সাথে সম্পর্কিত থাকে। যা বাস্তবকে ইঙ্গিত করে।

উদাহরণঃ একটি বিমান উড়তে যাওয়ার সময়ে তার কোন সমস্যা দেখা দিল বা উড়ার পরে সেটি ক্রাশ করলো, এমন অবস্থান তার ক্ষতির কিছু বাস্তব ও যৌক্তিক এবং ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যকে অনুমান করা যায়, যে সেখানে কোন কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে বা কি কি হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে।

পক্ষান্তরে আপনি কুকুরের লেজ নাড়ানো দেখে যদি বিমান দূর্ঘটনার উক্তি দেখান, সেটি অ-যৌক্তিক ও অসাভাবিক লক্ষন, এটিকে ইসলাম ধর্ম কখনোই সমর্থন করবে না।

ঠিক উক্ত চোখ লাফানোর ক্ষেত্রেও সেম বিষয়টি ঘটে। কারো চোখ লাফানো দেখে তার শরীরের দূর্বলতা বা চিন্তার ছাপ বোঝা যৌক্তিক কিন্তু তার খারপ কিছু বা ভালো কিছুু আশা করা অযৌক্তিক।।

বাম চোখ লাফালে কি হয় হিন্দু ধর্মে কি বলে

হিন্দু ধর্মের মধ্যে এমন কিছু প্রথাকে বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়, তবে এটি মূল হিন্দু ধর্মের কোন বিধীতে রয়েছে কিনা তা স্পস্ট জানতে পারিনি। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের অধীনস্ত সকল হিন্দুই এই প্রথা থেকে সরে এসেছে।

কারণ হিন্দু ধর্মের মধ্যে বেশ কিছু ভাগ রয়েছে তবে তারা তাদের মধ্যে অনেকগুলোকেইি বিভান্তকর বলে ধারনা করে থাকে, তাই আমরা এই ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে পারিনি।

যদি আপনি হিন্দু ধর্মের মতবাদ মেনে চলেন বা কোন হিন্দু গোষ্টির অনুকরনী হয়ে থাকেন, তাহলে এই বিষয়ে আপনার ধর্মীয় গুরুদের সাথে আলোচনা করে সঠিক তথ্যটি নিশ্চিত হতে পারেন বা সরাসরি উপরস্ত বিজ্ঞানের তথ্যকে ফলো করতে পারেন

আমাদের চোখের পাতা লাফানো নিয়ে করণীয়

বিশেষ কিছু অভ্যাস কমিয়ে নিতে হবে, তাহলে আশা করা যয়া যে ভালো সমাধান পাওয়া যাবে, আর তার পরেও যদি সমাধান না পাওয়া যায়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে যেতে পারেন, ফলে সেটি একটি ভালো সমাধান মিলবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতেও পারবেন।

  • স্ক্রিন টাইম কমান
  • পর্যাপ্ত ঘুম
  • চা-কফি কমান
  • চোখের যত্ন
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান
  • চিন্তু মুক্ত জীবন গড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top