লরিক্স প্লাস লোশন মূলত একটি চুলকানিনাশক ওষুধ। এটি সরাসরি খাওয়ার যোগ্য নয়, বরং এটি দেহের উপরিভাগে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা একটি লোশন। আজ আমরা লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম এবং এ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানব। সেই সাথে চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে এর দাম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও জেনে নেব।
lorix plus lotion এর কাজ কি
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস-এর লরিক্স প্লাস লোশন মূলত চুলকানির জীবাণুকে ধ্বংস করে। এটি সাধারণত অতিরিক্ত মাত্রার বিভিন্ন প্রজাতির চুলকানি নিধনে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এটি যেসব চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে, তার মধ্যে পরিচিত কয়েকটি হলো:
- আঙুলের ফাঁকে, কবজিতে বা শরীরের ভাঁজে স্ক্যাবিস (খোস-পাঁচড়া) বা পক্স জাতীয় ছোঁয়াচে চুলকানি।
- সরাসরি উকুনের ওষুধ না হলেও এটি উকুনজনিত চুলকানি সারাতে কাজে লাগে।
- চামড়া শুকিয়ে যাওয়া (শুকনো চুলকানি যার কোনো চিহ্ন উপরে ভেসে থাকে না) এবং অ্যালার্জিক র্যাশ জাতীয় চুলকানি দূর করে।
- অপরিষ্কার কাপড় বা শরীরে জমে থাকা ময়লার কারণে যেসব চুলকানি দেখা যায়, সেগুলোর জীবাণু বিনাশ করতেও এটি সক্ষম।
এক কথায়, প্রায় সব ধরনের তীব্র চুলকানির বিরুদ্ধেই এটি বেশ কার্যকর। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো প্রকারের চুলকানির জন্যই আপনি এই লোশনটি ব্যবহার করতে পারেন।
লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম
যেহেতু এটি দেহের বাইরের অংশে লাগানোর একটি ওষুধ, তাই খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন কোনোভাবেই মুখ ও চোখের ভেতরে প্রবেশ না করে। এটি লাগানোর তেমন কঠিন কোনো প্রক্রিয়া নেই, তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার। যেহেতু এটি জীবাণু ধ্বংস করে, তাই শরীরের ভাঁজে বা কাপড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জীবাণুরা যেন পুনরায় আক্রমণ করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
সঠিকভাবে এই লোশন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পরবর্তী কিছু ধাপ নিচে আলোচনা করা হলো:
ব্যবহারের প্রস্তুতি: এই লোশন ব্যবহারের আগেই বিছানার চাদর, বালিশের কভার এবং পরনের নিত্যব্যবহার্য সকল কাপড় গরম পানিতে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এতে জীবাণুরা লুকিয়ে থাকতে পারবে না, যা দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে জীবাণুর মাত্রা কমে যায় এবং ওষুধ সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতা দেখাতে পারে।
ব্যবহারের নিয়ম: হালকা গরম পানিতে গোসল করার পর শরীরে লরিক্স প্লাস লোশন লাগিয়ে নিতে পারেন। সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে এটি শরীরে ভালোভাবে মেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি তেলের মতো শরীরে মিশে যায়, তাই লাগিয়ে বেশ লম্বা সময় (৮ থেকে ১২ ঘণ্টা) রেখে দেওয়া যায়। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ১২ বা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি ১ থেকে ২ বার লাগাতে পারেন। লোশন লাগানো অবস্থায় হাত পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে গরম পানি ব্যবহার করুন।
ধুয়ে ফেলার নিয়ম: নির্দিষ্ট সময় পর শরীর থেকে লোশন পরিষ্কার করতে চাইলে পুনরায় গরম পানিতে গোসল করে ধুয়ে ফেলতে পারবেন। এ সময় সাবান ব্যবহার না করাই সবচেয়ে ভালো।
ব্যবহারের পরের কাজ: লোশন ব্যবহার শেষে এই সময়ে যেসব বিছানা, বালিশ ও পোশাক আপনি ব্যবহার করেছেন, সেগুলো জীবাণুমুক্ত করতে পুনরায় গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। তাহলে আপনি ভবিষ্যতে পুনরায় আক্রান্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন।
লরিক্স প্লাস লোসন এর ব্যবহার পরিমাণঃ
১২ বছরের বেশি (প্রাপ্তবয়স্ক): একবারে ৩০ থেকে ৬০ মিলি (অর্ধেক বা সম্পূর্ণ বোতল)। তবে রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ব্যবহারের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।
৬ থেকে ১২ বছর: পরিমাণমতো ব্যবহার করতে হবে (সাধারণত ১টি বোতল ৪-৫ বারে ব্যবহার করা যায়)।
২ মাস থেকে ৫ বছর: শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অত্যন্ত কম মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।
লরিক্স প্লাস লোশন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
যেহেতু এটি এক ধরনের রাসায়নিক তরল, তাই এর কিছু সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। সাধারণত ব্যবহারে তেমন বড় কোনো ক্ষতি লক্ষ্য করা যায় না। তবে ব্যবহারের শুরুতে ত্বকে সাময়িক মৃদু জ্বালাপোড়া, হালকা সুড়সুড়ি বা ত্বক কিছুটা লালচে হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় বা শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের দেওয়া কঠোর নির্দেশ মেনে এটি ব্যবহার করতে হবে। আর এটি ব্যবহারের আগে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার সমস্যাটি আসলেই স্ক্যাবিস বা জীবাণুজনিত চুলকানি কি না; সাধারণ অ্যালার্জিতে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম
বাজারে লরিক্স প্লাস ক্রিম ও লোশন—উভয় আকারেই পাওয়া যায়। ক্রিমের কৌটা ছোট হয় এবং লোশনের বোতল বড় থাকে, তাই উভয়ের দামও ভিন্ন। বর্তমানে লরিক্স প্লাস লোশনের ৬০ মিলি বোতলের খুচরা মূল্য (MRP) আনুমানিক ৯০ টাকা। তবে সময় বা এলাকাভেদে এই দাম সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
লরিক্স প্লাস লোশনের কাজ কী?
এটি মূলত খোস-পাঁচড়া (Scabies), মাথার উকুন, পোকামাকড়ের কামড় এবং বিভিন্ন ধরণের জীবাণুজনিত তীব্র চুলকানি দ্রুত দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।
এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম কী?
খোস-পাঁচড়ার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে গলার নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুরো শরীরে লোশনটি মেখে ৮-১২ ঘণ্টা রেখে সকালে ধুয়ে ফেলতে হয়। সাধারণ চুলকানিতে শুধু আক্রান্ত স্থানে দিনে ১ বার পাতলা করে লাগাতে হয়।
লরিক্স প্লাস লোশনের দাম কত?
বর্তমানে এর ৬০ মিলি বোতলের বাজার মূল্য আনুমানিক ৯০ টাকা।
এর কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
এটি সাধারণত নিরাপদ, তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে সাময়িক জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তীব্র কোনো অস্বস্তি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
Pingback: লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও দাম কত - Banglavor || আজকের খবর