লোমফোঁড়ার সমন্ধেে আমরা আমাদের BongoMede এই ব্লগে ভালোভাবে তুলে ধরতে চলেছি। আশা করি আপনারা পর্যাপ্ত তথ্য পেয়ে উপকৃত হবেন।
লোমফোঁড়ার চিকিৎসাবিজ্ঞানের দেওয়া নাম হচ্ছে ফারাঙ্কল কিন্তু সাধারন লোকজ এটিকে বালতোড় নামেও চিনে থাকেন। তবে নামে যা ই থাকুক না কেন। আমরা আজ একটি নামেই তার সমাধান বের করার চেষ্টা করে যাবো। আমরা বিভিন্ন রিসার্চ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমাধান খুজে বের করবো সাথে সাথে আমরা ঘরোয়া ও প্রাচীন উপায়ও খুজে দিবো।
লোমফোঁড়া কি এবং কেন হয়?
লোমফোঁড়া বাফারাঙ্কল মূলত লোমকূপের একটি গভীর সংক্রমণ। এটি ত্বকের নিচে লাল, ব্যথাজনক এবং পুঁঁজভর্তি একটি গুটির মতো দেখা দেয়। এটিকে ত্বকের এক ধরণের ব্যাকটেরিয়াঘটিত ইনফেকশন ও বলা হয়। যখন কোনো নির্দিষ্ট লোমকূপের গোড়ায় জীবাণু আক্রমণ করে এবং সেটি টিস্যুর গভীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে এই বিশেষ জাতের লোমফোঁড়ার জন্ম হয়।
ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই Staphylococcus aureus নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে। সাধারণ অবস্থায় এটি কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু ত্বকে কোনো কাটা, স্ক্র্যাচ বা পোকা কামড়ানোর ফলে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি হলে এই ব্যাকটেরিয়া লোমের গোড়া দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সংক্রমণ ঘটায়।
যখন ই আমাদের বিশেষ কোন কারণে শরির থেকে লোম উঠে যায় তখন সেই সরু পথটি ধরে Staphylococcus aureus দেহের মধ্যে ঢুকে সংক্রমণ ঘটায়। একারেই এটাকে লোমফোঁড়া হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।
লোমফোঁড়ার চিকিৎসা
আমরা উপরেই বলেছিলাম যে আমরা বিভিন্ন প্রকারের লোমফোঁড়ার চিকিৎসা সমন্ধে এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। তবে এর একাধীক চিকিৎসা ব্যাবস্থা রয়েছে। যা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার করাও হয়। আমরা এটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ৩ টি ভাগে ভাগ করতে পারি।
১. যদি ফোঁড়া অনেক বড় হয় এবং ভেতরে প্রচুর পুঁঁজ থাকে, তবে ডাক্তাররা একটি ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফোঁড়াটি কেটে পুঁঁজ বের করে দেন। ভেতরের পুজ বেড়িয়ে গেলে সেখানে টনটন করা ব্যাথা কমে যায় এবং জায়গাটি দ্রুত শুকাতে পারে। সেই সাথে আবার যদি আরো জীবানু থাকে, তাহলে ফাকা স্থানে আরো পুজ সহজেই জমতে পারে।
পুঁঁজ বের করার পর সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমনঃ
- Mupirocin
- Fusidic Acid
২. যদি ফোঁড়াটি শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় হয় যেমনঃ মুখমণ্ডল, মেরুদণ্ড এর মতো স্থানে (যেখানে কোন প্রকারের ঝুকি নেওয়া যায় না।) এবং রোগীর জ্বর থাকে অথবা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে তখন চিকিৎসকরা মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। যেমনঃ
- Flucloxacillin
- Cephalexin
৩. গরম সেঁক দেওয়ার মাধ্যমে ও চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে গরম সেঁক দেওয়ার একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। গরম সেঁক দিলে ওই স্থানের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাদ্রুত সংক্রমণের জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করে।
লোমফোঁড়ার ঘরোয়া ও প্রাচীন চিকিৎসা
লোমফোঁড়া এর ঘরোয়া বা প্রাচীন কিছু কার্যকারী চিকিৎসা রয়েছে। আমরা সেগুলো নিচে উল্লেখ করে দিচ্ছি। সেখান থেকে আপনি আপনার বর্তমান অবস্থা ও সহজ মাধ্যমকে ব্যবহার করে উপশম পেতে পারেন।
- ফোঁড়া পাকাতে বা ব্যথা কমাতে গরম সেঁক ব্যবহার করা হয়। গরম সেঁক ওই জায়গার রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়, ফলে শরীরের শ্বেত রক্তকণিকা দ্রুত জীবাণুর সাথে লড়াই করতে পারে।
- কাঁচা হলুদ বাটা বা হলুদের গুঁড়োর সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। হলুদে থাকা কারকিউমিন ব্যথা কমাতে কাজ করে।
- নিম পাতা বেটে ফোঁড়ার ওপর প্রলেপ দিন। নিমে আছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা সরাসরি ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।
- ২-৩ কোয়া রসুন থেঁতলে তার রস ফোঁড়ার ওপর লাগান। আদা বাটা দিয়েও একইভাবে প্রলেপ দেওয়া যায়। রসুনে থাকা অ্যালিসিন (Allicin) উপাদান খুব শক্তিশালী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
- একটি তুলা ক্যাস্টর অয়েলে ভিজিয়ে ফোঁড়ার ওপর দিয়ে রাখুন। এতে থাকা রিসিনোলিক অ্যাসিড একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা দ্রুত ব্যথা কমিয়ে দেয়।
- হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে ফোঁড়ার চারপাশ পরিষ্কার করা। লবণ পানি ব্যাকটেরিয়াকে বংশবিস্তার করতে বাধা দেয় এবং ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে।
এগুলো প্রায় অনেক প্রাচীন কাল থেকেই চলমান রয়েছে। তাই এগুলো ঘরোয়া ভাবে যে কোনটা ট্রাই করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেক্ষেত্রে অবস্থা সমন্ধে বুঝে চিকিৎ়সকের পরামর্শ নিতে হবে।
লোমফোঁড়ার ওষুধের নাম
সবসময় ই ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শে যাওয়া আবশ্যক। আমরা আপনাকে ওষুধ সমন্ধে জানিয়ে রাখি তবে এটি শুধুমাত্রই আপনাদের অবজ্ঞত করার জন্যই, যাতে যেনে বুঝে সেবন করতে পারেন।
Flucloxacillin, Cephalexin, Cloxacillin এই গ্রুপের ওষুধগুলো মুখে খাওয়ার জন্য। এই গ্রুপে বিভিন্ন কোম্পপানির ভিন্ন ভিন্ন নামে বেশ কিছু ওষুধ পাওয়া যায়।
বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য আমরা আরো কিছু ওষুধ রয়েছে। Mupirocin, Fusidic Acid, Povidone-Iodine এই গ্রুপ গুলোর ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ রয়েছে।
এর সাথে ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির ব্যাথানাশক ও ড্রেসিং এর জন্যেও ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। আমাদের সাইটে আমরা ব্যাথা নাশক ও ড্রেসিং এর সমন্ধে আরো অনেক পোস্ট রেখেছি। সেগুলো থেকে সঠিক নিয়ম জেনে নিতে পারেন।
শেষ কথা
অনেক ওষুধ ই আপনি হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন। তবে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকাই ভালো। আমরা এখানে আপনাকে ওষুধ সমন্ধে জানাতে এই তালিকা দিয়েছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এগুলো আপনি নিজে থেকেই সেবন করতে পারেন।
আপনার নাগালেই ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসার সরঞ্জাম রয়েছে, যদি আপনি সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। সেই সমন্ধেই আপনারা আমাদের সাইটের সাথে থাকতে পারেন। আমরা প্রতিনিয়ত ই আমরা আপনাদের স্বাস্থ্য সমন্ধে নিয়মিত আপডেট জানাতে থাকবো।